Home World ASIA বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন

বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন


দ্রব্যমূল্য দিয়ে একটি দেশের জনগণের ভালো থাকা মন্দ থাকাকে নির্ণয় করা যায়। আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একটি পরিবার কিভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনকে নির্বাহ করবে তা নির্ভর করে তাদের আয়, চাহিদা এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর। প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যদি সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে থাকে তখন আপামর জনসাধারণের জীবন স্বস্তিতে কাটে এটাই সত্য।

মানুষের মুখে শায়েস্তা খাঁর সময়কাল এখনো যেন স্বস্তির প্রতীক হিসেবে টিকে আছে। তার আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয় বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল শায়েস্তা খাঁর সময় কিন্তু আজও মানুষ সে সময়কে মনে রেখেছে। সাধারণ মানুষ যদি ভালোভাবে খেয়ে-পরে থাকতে পারে তাহলে অনেক বিষয়ই সে চোখ দেয় না। ব্রিটিশ শাসনামলেও আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য একটা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঘোড়া জনগণকে হতাশার রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়, তখন দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র পরিবারে শুরু হয় অশান্তি। তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে একদিকে জনজীবনে নেমে আসে কষ্টের কালো ছায়া। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা হলো। আমরা ভারতের পেঁয়াজ আটকে দেয়ার কথা জানলাম। আবার বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে শুনলাম। তারপরে আবার শুনলাম ভারতের পেঁয়াজ এসেছে। কিন্তু দাম আজও কমেনি। ৫০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ থেকে ৯০ টাকার ভেতরেই আছে। বাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া। সবার একই আওয়াজ, বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার জন্য দাম বেড়েছে। কিন্তু কৃষক কি বেশি টাকা পাচ্ছে? বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো কায়দা নেই।

সব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বলে কোন দ্রব্যের কখন দাম বাড়বে তা জানে না কেউ। ঘোড়ারও বলগা থাকে, কিন্তু আমাদের বাজারের বলগা নেই- তার রাশ টেনে ধরারও নেই কেউ। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম কার্যকর করেননি চালকল মালিকরা। এতে বাড়ছে সব ধরনের চালের দাম। পাইকারি বাজারে জাত ও মানভেদে প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। এর প্রভাব খুচরায়। সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিয়ে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কষ্ট বাড়ছে নি¤œ আয়ের মানুষের। সরকারি কোন পদক্ষেপই সিন্ডিকেটমুক্ত হতে পারছে না চালের বাজার। এ অবস্থায় চালের অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় গঠিত সাতটি মনিটরিং টিম মাঠে রয়েছে।

এরপরও সিন্ডিকেট মিলমালিকদের কারসাজি বন্ধ হয়নি। অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। দাম বাড়ার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন এ রকম মিলারদেরও খুঁজে খুঁজে লাইসেন্স বাতিল করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এই বছরেও মৌসুমের শেষে এবং বন্যার কারণে তাদের বাজার প্রভাবিত করার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চালকল মালিকদের সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী বলেছেন, আমরা যদি নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি করি, এরপরে সেটা যখন পাইকারি ও খুচরা বাজারে যাবে তখন দাম আরও বেড়ে যাবে, সেটাও যেন মনিটর করা হয়। সব জায়গায় সরকারি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বাজারের চারপাশে এখন শত শত মজুতদার কিলবিল করছে। এদের সিন্ডিকেট কোনোমতেই ভাঙা যাচ্ছে না। কেন যাচ্ছে না এটাই প্রশ্ন। এদের হাত কি সরকারের চেয়ে বড়? দ্রæত এদের নিয়ন্ত্রণ করুন- আজকের দাবি এটাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



Source link

Must Read

Google Says Its 140,000 Employees Must Be Vaccinated To Return To The Office

In one of the biggest announcements of its kind, Google told its 140,000-plus employees Wednesday that they must be vaccinated against COVID-19 to...

China Copyright Law: It Pays to Register

Copyright is an essential part of any China IP protection plan, but many companies fail...

Cartoons and Commentary: Flood Victims and Rescuers “Are Human Beings, Not Bowls of Soup”

At least 63 are dead after intense flooding in Henan. Over 160,000 first responders have been sent to Henan to aid rescue and...

Another Chinese Joint Venture Goes Nuclear: Lessons for Minority JV Partners

A good friend and China watcher recently posted a CNN article on LinkedIn regarding issues...

Must I Register My Company Name as a Trademark in China?

Clients often ask our IP lawyers whether they need to register their company name as...