Home World ASIA ১২ হাজার বাংলাদেশি ফ্ল্যাটের মালিক

১২ হাজার বাংলাদেশি ফ্ল্যাটের মালিক


সেকেন্ড হোম হিসেবে যেসব বিদেশি নাগরিক মালয়েশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বিদেশিরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসেবে দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় অনেক বাংলাদেশি এই সুযোগ নিচ্ছেন। সম্প্রতি দেশটির সারওয়াকে সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে নতুন সংশোধিত প্রয়োজনীয়তা এবং বিধিমালা রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। এতে নতুন নীতিমালায় রাজ্যে বাড়ি নির্মাণে বা সেকেন্ড হোম করতে বিদেশিরা আকৃষ্ট হবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। নতুন আবেদনকারীদের নিজ দেশে প্রাসঙ্গিক সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভালো আচরণের একটি চিঠি জমা দিতে হবে আবেদনের সঙ্গে এবং অংশগ্রহণকারীদের কোনো অপরাধমূলক অপরাধ থাকলে এসএমএম ২ এইচ পাসটি বাতিল করা হবে। চলমান, মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এবং সীমান্ত বিধি-নিষেধের কারণে বিদেশিরা এই মুহূর্তে সরওয়াকে আসতে পারছেন না। সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে রাজ্য অনড়। এক্ষেত্রে অপরাধী বা অর্থপাচারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাজ্যে স্বাগত জানায় না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ১ হাজার ২০০ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ফ্ল্যাট, বাড়ি কেনার জন্য দেশটির সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হয়েছেন। এর আগে ৭ হাজার বাংলাদেশি এই প্রকল্পভুক্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তারা বৈধভাবেই দেশটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট নতুন করে ১ হাজার ২০০ বাংলাদেশির সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধ অধিকার পাওয়ার তথ্য জানায়। মালয়েশিয়া সরকার বিদেশিদের সে দেশে জমি, ঘর-বাড়ি কিনে বাস করার আইনসম্মত অধিকার দিয়েছে। বিদেশি অর্থ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তাদের এ নীতি ব্যাপক সাফল্য এনেছে।

৫০ বা তার বেশি বয়সী বিদেশিকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য দেশটির ব্যাংকে দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনকারীর মাসিক আয় হতে হবে ১০ হাজার রিঙ্গিত। যাদের বয়স প াশের নিচে, তাদের ফিক্সড ডিপোজিট তিন কোটি টাকা ও মাসিক আয় দেখাতে হয় ২০ হাজার রিঙ্গিত। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের হোম প্রকল্পভুক্ত থেকে আগ্রহী বিদেশিদের ফিক্সড ডিপোজিট ও মাসিক আয় প্রদর্শনের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। তারপরও বিদেশিদের আগ্রহ কমেনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মালয়েশিয়াকে তাদের ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। আরো ৫০ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশ থেকে আরো ৪ হাজার আবেদনকারী রয়েছেন, যারা নির্ধারিত পরিমাণ ফিক্সড ডিপোজিট জমা রেখেছেন। মাসিক আয়ও দেখিয়েছেন।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হবেন। বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে মালয়েশিয়া আট বছর আগে এ প্রকল্প চালু করে। এতে তারা বিপুল সাড়া পাওয়ার পর বিদেশিদের প্রকল্পভুক্ত করার হার কিছুটা কমিয়ে এনেছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে বিপুল সাড়া পড়ার ঘটনা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকেও বিস্মিত করেছে।

প্রকল্পভুক্ত ও আবেদনকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী, আমদানি-রফতানিকারক ও শিল্পপতি। বাকিরা সাবেক আমলা, রাজনীতিবিদ, ক‚টনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী। তবে সেকেন্ড হোম করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধপথে নেননি। নিরাপত্তার অজুহাতে চলছে অবৈধভাবে অর্থপাচার। দেশটিতে সেকেন্ড হোমে বসবাসকারী অনেকের কাছেই ওপেনসিক্রেট। বিষয়টি জানে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও। তবুও থামছে না এ অর্থপাচার।

২০১৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। ওই কমিটির কার্যপরিধি সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছিল, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল। ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাকারীদের রয়েছে এমন তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি।

জানা গেছে, এ ধরনের সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হলেও এদেশের সুযোগ গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেকেই বলছেন, মালয়েশিয়া টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় বাংলাদেশিরা এই সুযোগ নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সরকারকে এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। কেন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করতে যাচ্ছে মানুষ। মালয়েশিয়া আমাদের জন্য যা করতে পারছে, আমরা কেন তা পারছি না।’



Source link

Must Read

Socialist-Themed Vegan Food Company Lays Off Workers Without Notice Or Severance

A self-described socially conscious vegan food manufacturer laid off its entire production staff in North Carolina on Friday, infuriating workers who said the...

Will Hong Kong’s New Film Censorship Law Kill Off Local Production?

In 1988, Hong Kong passed a Film Censorship Ordinance that updated previous guidelines governing film...

Overseas Manufacturing.

How many of you know what “deep six” means? How many of you have used...

Global Law and Business Podcast – Joe McCall (Ireland)

Listen HERE or stream on Spotify, Apple Podcasts, Amazon Music, Stitcher, or Soundcloud! At Harris Bricken, we keep close tabs on what is...

Translation: Gwyneth Ho on the Meaning of June Fourth to Hong Kong

Gwyneth Ho Kwai-lam is one of 47 Hong Kong pro-democracy activists charged with subversion under the National Security Law for running in a...